মহামারির প্রতি খ্রীষ্টিয়ানের প্রতিক্রিয়া কী হওয়া উচিত?
এক বিশাল ঝড়ের মতো একটি অনিয়ন্ত্রিত ভাইরাস মহাদেশ থেকে মহাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে এবং আমাদের চারপাশের মানুষকে সংক্রমিত করছে। আমাদের কারও কারও কাছ থেকে এটি কাজ কেড়ে নেয়, কেড়ে নেয় প্রিয়জনদের জীবন। যে ভাইরাসের কোনো চিকিৎসা আমাদের কাছে নেই, তার সামনে আমরা নিজেদের আশাহীন মনে করি। মনে হয় যেন ঝড়ের মধ্যে একটি ছোট নৌকায় ভেসে চলেছি।
37ভয়ংকর এক ঝড় এসে উপস্থিত হল। ঢেউ নৌকার উপরে এমনভাবে আছড়ে পড়তে লাগল যে, নৌকা প্রায় জলে পূর্ণ হতে লাগল। 38যীশু নৌকার পিছন দিকে একটি বালিশে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছিলেন। শিষ্যেরা তাঁকে জাগিয়ে তুলে বললেন, “গুরুমহাশয়, আমরা ডুবে যাচ্ছি, আপনার কি কোনও চিন্তা নেই?”39তিনি উঠে ঝড়কে থেমে যাওয়ার আদেশ দিলেন ও ঢেউগুলিকে বললেন, “শান্ত হও! স্থির হও!” তখন ঝড় থেমে গেল ও সবকিছু সম্পূর্ণ শান্ত হল।40তিনি তাঁর শিষ্যদের বললেন, “তোমরা এত ভয় পেলে কেন? তোমাদের কি এখনও কোনো বিশ্বাস নেই?”( মার্ক 4:37-40 )
এই জগতের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা আমাদের পক্ষে স্বাভাবিক। যখন সবকিছু আমাদের প্রত্যাশামতো চলে, আমরা নিশ্চিন্ত ও আনন্দিত থাকি। ছোটখাটো কোনো সমস্যা এলে আমরা তা উপেক্ষা করে এগিয়ে যেতে চেষ্টা করি। আরামদায়ক জীবন এনে দেওয়া শিল্পোন্নতি এবং কীভাবে সবকিছু কাজ করে তা ব্যাখ্যা করা ও সব রোগের টিকা তৈরি করা বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়তে থাকে। কিন্তু আমাদের বিশ্বাসের ভিত্তি খুবই ভঙ্গুর, আর অস্বাভাবিক কিছু ঘটলেই তা দ্রুত ভেঙে পড়ে। চলুন দেখি, আমাদের পিতা ঈশ্বরের কাছ থেকে আমরা কী প্রতিশ্রুতি পেয়েছি।
2তোমরা যদি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর বাধ্য হও তবে এসব আশীর্বাদ তোমরা পাবে আর তা তোমাদের সঙ্গে থাকবে3তোমরা নগরে আশীর্বাদ পাবে এবং দেশে আশীর্বাদ পাবে।4তোমাদের গর্ভের ফলে, ক্ষেতের ফসলে এবং পশুধনের ফলে আশীর্বাদ পাবে—তোমাদের পশুপালের বাছুর ও মেষীদের শাবক।5তোমাদের ঝুড়ি এবং ময়দা মাখার পাত্রে আশীর্বাদ পাবে।6ভিতরে আসবার সময় তোমরা আশীর্বাদ পাবে এবং বাইরে যাওয়ার সময় তোমরা আশীর্বাদ পাবে।7যারা শত্রু হয়ে তোমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে সদাপ্রভু এমন করবেন যাতে তারা তোমাদের সামনে হেরে যায়। তারা একদিক থেকে তোমাদের আক্রমণ করতে এসে সাত দিক দিয়ে পালিয়ে যাবে।8তোমাদের গোলাঘরের উপর সদাপ্রভুর আশীর্বাদ থাকবে এবং যে কাজে তোমরা হাত দেবে তাতেই তিনি আশীর্বাদ করবেন। তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তাঁর দেওয়া দেশে তোমাদের আশীর্বাদ করবেন।11সদাপ্রভু তোমাদের খুব সমৃদ্ধ করবেন—তোমাদের গর্ভের ফলে, পশুধনের ফলে এবং ক্ষেতের ফসলে—সেই দেশে যা তিনি দেবেন বলে তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে শপথ করেছিলেন।12তোমাদের সময়মতো বৃষ্টি দিয়ে তোমাদের হাতের সব কাজে আশীর্বাদ করবার জন্য সদাপ্রভু তাঁর দানের ভাণ্ডার, আকাশ খুলে দেবেন। তোমরা অনেক জাতিকে ঋণ দেবে কিন্তু তোমরা নিজেরা কারোর কাছ থেকে ঋণ নেবে না।13সদাপ্রভু এমন করবেন যাতে তোমরা সকলের মাথার উপরে থাকো, পায়ের তলায় নয়। তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর যেসব আদেশ আজ আমি তোমাদের দিচ্ছি তাতে যদি মনোযোগ দাও এবং যত্নের সঙ্গে পালন করো, তবে সবসময় তোমরা উন্নত হবে, কখনোই অবনত হবে না।( দ্বিতীয় বিবরণ 28:2,3,4,5,6,7,8,11,12,13 )
ঈশ্বর ও তাঁর আজ্ঞাগুলো সম্পূর্ণভাবে পালন করে এই জীবন যাপন করা আমাদের স্বভাবে নেই। জীবন বিপদ থেকে বেরিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা বারবার আমাদের মন্দ পথে চলি...
15বারবার আমি আমার দাস ভাববাদীদের তোমাদের কাছে প্রেরণ করেছি। তারা বলেছে, “তোমাদের মধ্যে প্রত্যেকে, তোমাদের দুষ্টতার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং তোমাদের কার্যকলাপের সংশোধন করবে। অন্যান্য দেবদেবীর অনুসারী হয়ে তাদের সেবা করবে না। তাহলে এই যে দেশ আমি তোমাদের ও তোমাদের পিতৃপুরুষদের দিয়েছি, সেখানে তোমরা বসবাস করতে পারবে।” কিন্তু তোমরা আমার কথা শোনোনি বা তাতে মনোযোগও দাওনি।( যিরমিয় 35:15 )
আমরা নিজেদের ভয় ও বিশ্বাসের অভাবের মধ্যে দেখতে পাই। হাজার হাজার বছর ধরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানুষ ঈশ্বরের অবাধ্য হয়েছে এবং তাঁর আশীর্বাদ হারিয়েছে। আমরা ঈশ্বরের আজ্ঞার ভিত্তি থেকে ভালবাসাকে ঝেড়ে ফেলেছি, রেখে দিয়েছি শুধু শুকনো কিছু বিধি, যেগুলো আমরা কেবল বাহ্যিক ও আনুষ্ঠানিকভাবে মানি। এসবই আমাদের ঠিক প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ভয়ের জায়গায় এনে ফেলেছে…
20মন্দ কাজ করে সদাপ্রভুকে ত্যাগ করার অপরাধে তোমাদের সমস্ত কাজে তিনি তোমাদের অভিশাপ দেবেন, বিশৃঙ্খলায় ফেলবেন ও তিরস্কার করবেন, যতক্ষণ না তোমরা হঠাৎ ধ্বংস হয়ে নির্মূল না হও।22সদাপ্রভু তোমাদের ক্ষয়রোগ, জ্বর, জ্বালা, প্রচণ্ড উত্তাপ ও তরোয়াল, তার সঙ্গে উদ্ভিদের রোগ ও ছত্রাক দ্বারা মহামারি আনবেন যতক্ষণ না তোমরা ধ্বংস হও।( দ্বিতীয় বিবরণ 28:20,22 )
ঈশ্বরের ক্রোধ সত্যিই ভয়ংকর। কিন্তু এমন নিষ্ঠুর কাজ করার জন্য আমাদের স্বর্গীয় পিতার বিচার করতে তাড়াহুড়ো করার আগে, এমন একজন ডাক্তারের কথা কল্পনা করি, যিনি একজন মানুষকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে তার সংক্রমিত পা কেটে ফেলছেন। যা চোখে দেখা যায় তার ওপর মনোযোগ দেওয়া এবং আমাদের ঈশ্বরের ভালবাসা ও আমাদের উদ্ধার করার আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করা আমাদের পক্ষে স্বাভাবিক। আমাদের সন্তান আমাদের রাগ আর পিঠে পড়া একটি যন্ত্রণাদায়ক চড় মনে রাখবে, কিন্তু সহজেই ভুলে যাবে কীভাবে তা তাকে বিপজ্জনক খাদের কিনারা থেকে পড়ে যাওয়া থেকে বাঁচিয়েছিল। আর আমরা, যারা কেবল জাগতিক বিষয়গুলোই দেখি, ঈশ্বরের ক্রোধ আমাদের কী থেকে রক্ষা করে তা দেখতেও পাই না।
ঈশ্বর চান আমরা বিশ্বস্তভাবে তাঁর বাধ্য হই। তিনি চান আমরা যা দেখি তাতে ভয় না পেয়ে বরং আমাদের বিশ্বাস থেকে আস্থা লাভ করি।
18তাই কোনো দৃশ্যমান বস্তুর দিকে নয়, কিন্তু যা অদৃশ্য তার প্রতি আমরা দৃষ্টি নিবদ্ধ করি। কারণ যা কিছু দৃশ্যমান, তা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু যা কিছু অদৃশ্য তাই চিরন্তন।( 2 করিন্থীয় 4:18 )
আপনি জীবন হারানোর ঝুঁকিতে থাকুন কিংবা সুস্বাস্থ্যের শিখরে, মৃত্যুকেই আমাদের জীবনে ঘটতে পারা সবচেয়ে খারাপ বিষয় বলে মনে করা হয়। কিন্তু সত্যিই কি তাই? একজন মানুষের যা আমরা শেষবার দেখি, তা হলো মৃত্যু। মৃত্যু আমাদের সামনে অদৃশ্যের, অজানার দরজা খুলে দেয়।
আমাদের জীবনের, কিংবা জীবনের পরের অজানাকে নিয়ন্ত্রণ করে হয় আমাদের ভয়, নয়তো আমাদের বিশ্বাস। আমরা নিজেদের ঘিরে রাখতে পারি ভয়ের অন্ধকারে, অথবা বিশ্বাসের আলোয়। এই জাগতিক জীবনে আমরা যেমন দেখি, বিশ্বস্ত মানুষেরা তাদের কাজে সফল হয়। আর সন্দেহ করার কোনো কারণ নেই যে, যারা বিশ্বাস করে, মৃত্যুর পরে বিশ্বাস তাদের পথ আলোকিত করবে। এমন এক জীবনের পথ, যা এই পৃথিবীর জীবনের চেয়ে অনেক উত্তম।
16“কারণ ঈশ্বর জগৎকে এমন প্রেম করলেন যে, তিনি তাঁর একজাত পুত্রকে দান করলেন, যেন যে কেউ তাঁকে বিশ্বাস করে সে বিনষ্ট না হয় কিন্তু অনন্ত জীবন পায়।( যোহন 3:16 )
এই মুহূর্তে আমরা বেঁচে আছি। আর এখন যে মিনিটটি আমরা বাঁচছি, তার জন্য, দেখতে ও শ্বাস নিতে পারার জন্য, এবং এই জগতে পরিবর্তন আনার সক্ষমতার জন্য আমরা আমাদের ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ। আমরা এখনও আমাদের প্রিয়জনদের দেখতে পারি এবং তাদের বলতে পারি তারা আমাদের কাছে কতটা মূল্যবান।
ভালবাসা ভয়কে জয় করে এবং প্রকাশ করে আমরা আসলে কে—ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্ট। আর শারীরিক মৃত্যু ও পুনরুত্থানের মধ্য দিয়ে গিয়ে যীশু খ্রীষ্ট মৃত্যুর শিকল ভেঙে দিয়েছেন এবং আমাদের জন্য পবিত্র আত্মাকে এনেছেন—এক অদৃশ্য সহায়, যিনি এখন আমাদের অন্তরে বাস করতে পারেন।
17তিনি সত্যের আত্মা। জগৎ তাঁকে গ্রহণ করতে পারে না। কারণ জগৎ তাঁকে দেখে না, তাঁকে জানেও না। কিন্তু তোমরা তাঁকে জানো, কারণ তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন এবং তিনি তোমাদের অন্তরে থাকবেন।14:17 কতগুলি পাণ্ডুলিপিতে আছে, থাকেন।( যোহন 14:17 )
আমরা যে আত্মা পেয়েছি তা ভয়ের আত্মা নয়, কারণ তিনি আমাদের অনন্ত জীবনের দিকে নিয়ে যান।
7কারণ ঈশ্বর আমাদের ভীরুতার আত্মা দেননি, কিন্তু দিয়েছেন পরাক্রম, প্রেম ও সুবুদ্ধির আত্মা।( 2 তিমথি 1:7 )
এ থেকে আমরা দেখতে পাই, যদি আমরা ভয় অনুভব করি, তবে তা ঈশ্বরের দেওয়া আত্মা থেকে নয়। যদি আমরা ভয়ের অন্ধকারে চলি, তবে আমরা প্রভু, আমাদের ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাসের আলো আনিনি।
12লোকদের আবার শিক্ষা দেওয়ার সময় যীশু বললেন, “আমি জগতের জ্যোতি। যে আমাকে অনুসরণ করে, সে কখনও অন্ধকারে পথ চলবে না, বরং সে জীবনের জ্যোতি লাভ করবে।”( যোহন 8:12 )
এখন, মহামারির কেন্দ্রস্থলে দাঁড়িয়ে আপনি কী বেছে নেবেন—ভয় না বিশ্বাস? এই ভয়ংকর জগতের অন্ধকারে অন্যেরা যখন আপনার দিকে তাকায়, তারা কি আপনার আলো দেখতে পায়?
3নিশ্চয় তিনিই তোমাকেশিকারির ফাঁদআর মারাত্মক মহামারি থেকে রক্ষা করবেন।4তিনি নিজের পালকে তোমাকে আবৃত করবেন,এবং তাঁর ডানার তলায় তুমি আশ্রয় পাবে;তাঁর বিশ্বস্ত প্রতিশ্রুতি হবে তোমার ঢাল ও সুরক্ষা।5তুমি রাতের আতঙ্ক থেকে ভয় পাবে না,অথবা দিনে উড়ন্ত তির থেকে,6অথবা মহামারি থেকে যা অন্ধকারে আক্রমণ করে,অথবা সংক্রামক ব্যাধি থেকে যা দুপুরে ধ্বংস করে।7তোমার পাশে হাজার জনের পতন হতে পারে,তোমার ডানপাশে দশ হাজার জনের,কিন্তু তা তোমার কাছে আসবে না।( গীত 91:3-7 )
9আমি কি তোমাকে এই আদেশ দিইনি? তুমি শক্তিশালী ও সাহসী হও। তুমি ভীত হোয়ো না; হতাশ হোয়ো না, কারণ তুমি যেখানেই যাবে, তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমার সঙ্গে সঙ্গে থাকবেন।”( যিহোশূয় 1:9 )
আমাদের জগতে কোনো কিছুই অকারণে ঘটে না। তাহলে এই মহামারি আমাদের কী শেখাবে? আমরা কি সত্যিই মানুষের জীবনের মূল্য দিতে পারব? আমরা কি প্রকৃত বন্ধুত্বকে মূল্য দিতে, আর যা পেয়েছি তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারব? এটি কি ইনস্টাগ্রামে আরও সুন্দর ছবি আর আমাদের ইউটিউব ভিডিওর আরও বেশি সাবস্ক্রাইবারের জন্য অর্থহীন প্রতিযোগিতার অবসান ঘটাবে? এটি কি অর্থ ও ক্ষমতার জন্য যুদ্ধের অবসান ঘটাবে? এটি কি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আকাশকে আবার নীল করে তুলবে? আমরা কি অবশেষে আমাদের চোখ থেকে আবরণ সরিয়ে আমাদের পিতার সৃষ্টি করা প্রকৃত জগৎ দেখতে পারব?
27আমি তোমাদের মধ্যে শান্তি রেখে যাচ্ছি, আমারই শান্তি তোমাদের দিয়ে যাচ্ছি। জগৎ যেভাবে দেয়, আমি সেভাবে তোমাদের দান করি না। তোমাদের হৃদয় যেন উদ্বিগ্ন না হয় এবং তোমরা ভীত হোয়ো না।( যোহন 14:27 )
সর্বস্বত্ব © 2007, 2017, 2019 Biblica, Inc.
অনুমতি সহ ব্যবহৃত। বিশ্বব্যাপী সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
The Holy Bible, Bengali Contemporary Version™
Copyright © 2007, 2017, 2019 by Biblica, Inc.
Used with permission. All rights reserved worldwide.